হিরো চলে গেলেন ‘মাটির ছেলে’ — বলিউড তারকা ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণে শোকের ছায়া

হিরো চলে গেলেন ‘মাটির ছেলে’ — বলিউড তারকা ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণে শোকের ছায়া

বলিউডের প্রিয় নায়ক, ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর নেই। দীর্ঘ ৬ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয় করেছেন এবং পর্দায় যেভাবে শক্তি, কোমলতা এবং হৃদয়বিজড়িত চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন, তা দীর্ঘ দিন জীবন্ত থাকবে।

ধর্মেন্দ্র (৮৯) আজ মুম্বাইয়ে প্রয়াত হয়েছেন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
তিনি কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর শেষকৃত্য মুম্বাইয়ের পবন হান্স সমাধিক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তারা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বলিউড এবং রাজনৈতিক মহলের অনেকেই হাজির ছিলেন।

জীবন ও ক্যারিয়ারের ভ্রমণ:

ধর্মেন্দ্র জন্মগ্রহণ করেছিলেন ৮ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের সব নাছরালি গ্রামে, কৃষক পরিবারে — একটি সাধারণ থেকে উঠে আসা ব্যক্তি, যিনি পর্দায় ‘বীর’, ‘রোমান্টিক’ এবং ‘আদর্শবাদী’ চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সিনেমায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০ সালে, প্রথম ছবি ছিল ‘দিল ভি তেরা, হাম ভি তেরে’।

দর্শকরা তাঁকে সবচেয়ে বেশি চেনেন ‘শোলা অউর শবনম’ এবং ‘বন্দিনী’ মতো ছবির জন্য।তাঁর ক্যারিয়ারের এক মাইলফলক ছিল ১৯৭৫ সালের শোলা — যেখানে তিনি অপরিবর্তনীয় পার্টনার অ্যাশিমিতরূপে দর্শকদের মনে জায়গা করতে পারেন।

১৯৬৯ সালে হৃষিকেশ মুখার্জি পরিচালিত সত্যকাম ছবিতে ধর্মেন্দ্র এমন এক আদর্শবাদী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যিনি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেন — নারীর যৌন সহিংসতার অতীৎ, সন্তান এবং মর্যাদার দ্বন্দ্ব।

ব্যক্তিগত জীবন ও সাংসদ-অভিনেতার পরিচয়:

ধর্মেন্দ্র শুধু বড় পর্দার তারকা ছিলেন না — তিনি রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদের সদস্য ছিলেন।
তাঁর পরিবারও ছিলেন বলিউড-ভিত্তিক: তাঁর স্ত্রী এবং সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনী এবং ছেলেরা সানি দেওল, ববি দেওল, কন্যা এশা দেওল প্রভৃতি।

মৃত্যু ও শোক:

ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণে হল এক যুগান্তকারী শূন্যতা — প্রিমিয়ার মিনিস্টার, বলিউড সহকর্মী এবং সাধারণ ভক্তরা একে “একটি যুগের সমাপ্তি” হিসেবে দেখছেন।বিগত দিনগুলোতে তাঁর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর ছড়িয়েছিল, আর কিছু দাবিতে বলা হয়েছিল তাঁর মৃত্যুও হয়ে গেছে, যা পরবর্তী সময়ে পরিবার কঠোরভাবে অস্বীকার করেছিল।

ধর্মেন্দ্রের অন্তর্ধানে বলিউড ও সাধারণ জনমনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ৬ দশক ধরে তিনি প্রতিভা, সংবেদনশীলতা ও নায়কত্বের এক বিশেষ মিশেল ছিলেন। তাঁর রোমান্টিক দৃশ্য, অ্যাকশন সিন এবং মন কাড়ানো ডায়লগ আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

ধর্মেন্দ্রের নাম বলিউড ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, এবং তাঁর জীবন-ক্যারিয়ার নিয়ে জানার জন্য ভবিষ্যতেও প্রজন্ম গঠন করবে শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণা।

CATEGORIES
TAGS
Share This