ট্রাইব্যুনালে কড়া নিরাপত্তা : আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান

ট্রাইব্যুনালে কড়া নিরাপত্তা : আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন।

রায়ের দিন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘোষণা করেছে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি। সম্ভাব্য নাশকতা বা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীজুড়ে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণী, আসাদগেট ও কাকরাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও আশপাশে সকাল থেকেই পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএন ও আনসার সদস্যদের বিপুল উপস্থিতি দেখা গেছে। হাইকোর্ট মাজার–সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল দলও অবস্থান নিয়েছে। সকাল সোয়া ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জেল প্রিজনের গাড়িতে করে হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এই মামলার তিন আসামি হলেন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন ইতিমধ্যে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা হয়।

এ ছাড়া আরও দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও নির্যাতনজনিত ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব মামলায় মোট ৩২ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রায়ের দিন যেকোনো অস্থিতিশীলতা রোধে রাজধানীজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি মনিটরিংয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

CATEGORIES
TAGS
Share This