
সুরা ইখলাস পাঠে বিশেষ ফজিলত: হাদিসে এসেছে জান্নাতে প্রাসাদের সুসংবাদ
সুরা ইখলাস ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতসম্পন্ন একটি সুরা হিসেবে পরিচিত। চার আয়াতের এই সংক্ষিপ্ত সুরাটিতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, অদ্বিতীয়তা ও পবিত্র সত্তার ঘোষণা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন সহিহ হাদিসে সুরাটির মর্যাদা, সওয়াব ও আধ্যাত্মিক প্রভাব সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়।
ইসলামী গ্রন্থসূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে ঘোষণা করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। সাহাবাদের প্রতিরাতে সুরাটি পাঠ করার প্রতি উৎসাহিত করাও তাঁর বাণীতে পাওয়া যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফজিলতের মধ্যে রয়েছে—যে ব্যক্তি সুরাটি টানা দশবার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। হাদিসে বর্ণিত এই সুসংবাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার দানশীলতা ও রহমতের সীমাহীনতার প্রতিফলন ব্যক্ত হয়েছে।
এছাড়া সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করাকেও জান্নাতে প্রবেশের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নবী করিম (সা.)। আরেক বর্ণনায় এসেছে, প্রতিদিন ২০০ বার সুরাটি পাঠ করলে বান্দার বহু বছরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে—তবে অন্যের হক সম্পর্কিত ঋণ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। সাহাবিদের জীবনে সুরা ইখলাস ছিল অন্যতম প্রিয় সুরা। একজন সাহাবি যখন জানান যে তিনি আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনার কারণে সুরাটি ভালোবাসেন, তখন নবী করিম (সা.) তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলেন—আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।

ইসলামী গবেষকদের মতে, কোরআনের বিষয়বস্তু তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত—আহকাম (বিধি-বিধান), জান্নাত–জাহান্নামের সুসংবাদ–সতর্কতা এবং আল্লাহর পরিচয়। সুরা ইখলাসে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি এত পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে যে এটিকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
দুনিয়ার সাময়িক জীবনে মানুষ একটি ঘরের জন্য যত পরিশ্রম করে, তার তুলনায় আখেরাতের অনন্ত জীবনে জান্নাতের প্রাসাদ অর্জন করা অনেক সহজ বলে হাদিসে ইঙ্গিত পাওয়া যায়—শুধু নিয়মিত সুরা ইখলাস পাঠের মাধ্যমেই এই মর্যাদা অর্জন সম্ভব।
মুসলিম উম্মাহকে সুরা ইখলাস অধিক পরিমাণে পাঠ করার তাওফিক দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন আলেমরা।
